যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ পরিকল্পনা সক্রিয় করেছে আদানি গ্রুপ

ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘুস কেলেঙ্কারির পর যুক্তরাষ্ট্রে কোণঠাসা অবস্থায় পড়েছিল আদানি গ্রুপ।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘুস কেলেঙ্কারির পর যুক্তরাষ্ট্রে কোণঠাসা অবস্থায় পড়েছিল আদানি গ্রুপ। তবে সম্প্রতি শিল্পগোষ্ঠীটি মার্কিন অবকাঠামোগত বিনিয়োগের পরিকল্পনা সক্রিয় করেছে। খবর রয়টার্স।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনের পর আদানি গ্রুপ পরমাণু বিদ্যুৎ ও ইউটিলিটি খাতের প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি পূর্ব উপকূলে একটি বন্দর প্রকল্পের সম্ভাব্য তহবিল পুনরায় সক্রিয় করেছে। গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা গৌতম আদানির ঘনিষ্ঠ চার ব্যক্তির বরাত দিয়ে খবরটি প্রথম প্রকাশ করেছে এফটি।

গত নভেম্বরে নিউইয়র্কের ফেডারেল প্রসিকিউটররা এক অভিযোগপত্রে গৌতম আদানির বিরুদ্ধে ভারতীয় কর্মকর্তাদের ঘুস দেয়ার অভিযোগ আনেন। আদানির ঘনিষ্ঠ সূত্রটি বলছে, ‘আমরা জানি আমরা কী করতে চাই, তবে মামলা মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করব।’

অবশ্য মার্কিন আদালতে ওঠা অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে আদানি গ্রুপ, পাশাপাশি ‘সম্ভাব্য সব আইনি পদক্ষেপ’ নেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। পরবর্তী সময়ে এফটির প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি তারা।

আগে থেকেই মার্কিন সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনায় ছিল আদানি গ্রুপ এবং টেক্সাসে পেট্রোকেমিক্যাল বিনিয়োগের কথাও ভেবেছিল।

ট্রাম্পের জয় লাভের পর গৌতম আদানি বলেছিলেন, গ্রুপটি মার্কিন জ্বালানি নিরাপত্তা ও অবকাঠামো প্রকল্পে ১ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে, যা ১৫ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি করবে।

ট্রাম্প ফেডারেল জ্বালানি কোম্পানিগুলোর ড্রিলিং সহজ করার এবং পাইপলাইন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর আদানি গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রে কিছু পরিকল্পনা পুনরায় সক্রিয় করেছে।

মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) গত মাসে গৌতম আদানি ও তার ভাতিজা সাগর আদানির বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ জালিয়াতি এবং ২৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ঘুস কেলেঙ্কারিসংক্রান্ত তদন্তে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছিল।

২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শর্ট-সেলার হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে অফশোর ট্যাক্স হ্যাভেনের অপব্যবহার ও শেয়ারমূল্য কারসাজির অভিযোগ তোলে।

ফলে গ্রুপের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্য ১৫ হাজার কোটি ডলার কমে যায়। তখন ওই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছিলেন আদানি।

আরও